সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ
হুম্মাম কাদের চৌধুরী। নামটা শুনলেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। উনার বাবাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। সেই রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কালিমা পড়তে পড়তে ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিলেন। প্রাণভিক্ষা চাননি। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির সেই মানুষটা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করেননি।
সেদিন ছেলে হুম্মাম বলেছিলেন, “বাবা প্রাণভিক্ষা চাননি। জীবিত অবস্থায় কখনো মাথানত করেননি।” সেই ছেলে নিজেও গুম হয়েছিলেন সাত মাসের জন্য। আদালত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। কোথায় ছিলেন, কেউ জানে না। মানুষের দোয়ায় ফিরে এসেছিলেন।
আর আজ সেই হুম্মাম কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে ১ লাখ ১ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে যাচ্ছেন। যে বাবার জানাযায় লাখো মানুষ কেঁদেছিল, সেই বাবার ত্যাগের ঋণ শোধ করতেই ছেলে মাঠে নেমেছিলেন। হুম্মাম নিজেই বলেছিলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষ আমার বাবার জন্য লড়াই করেছিলেন। আমি এই ঋণ শোধ করতে মাঠে নেমেছি।”
গলায় যখন শহীদ ওসমা হাদীর কথা উঠে আসে, চোখে যখন বাবার স্মৃতি ভেসে ওঠে, তখন বোঝা যায় এই ছেলে শুধু রাজনীতি করতে আসেননি। এসেছেন বাবার অসমাপ্ত লড়াই শেষ করতে। এসেছেন প্রমাণ করতে যে, আল্লাহ যাকে রক্ষা করতে চান, দুনিয়ার কোনো শক্তি তাকে থামাতে পারে না।
ফাঁসির রজ্জু , গুম থেকে সংসদ ভবন। এটা কোনো সিনেমার গল্প নয়। এটা আল্লাহর কুদরত। এটা তাওয়াক্কুলের ফল। এটা একটি পরিবারের রক্ত আর কান্নার বিনিময়ে অর্জিত বিজয়
#হুম্মাম_কাদের_চৌধুরী #সালাউদ্দিন_কাদের_চৌধুরী #ফাঁসির_মঞ্চ_থেকে_সংসদে #আল্লাহর_কুদরত বিএনপি #চট্টগ্রাম