পাহারা দিচ্ছে এসপি অফিসের স্টোনো ইসমাইল ওরফে 'ফটিক' চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি চেয়ে রক্তাক্ত এক পরিবার, উল্টো মামলার অপকৌশল!
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ইনভেস্টিগেশন টিম' অফ ক্রাইম সিন' চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তারিখ ৪/৩/২০২৬।
জমি রেজিস্ট্রি চাওয়ায় বসতবাড়িতে হামলা' নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন রক্তাক্ত জখম সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পাঞ্জা লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে! চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বলায় ভুক্তভোগী পরিবারের উপর ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর দেবীনগর হেফাজ বিশ্বাসের টোলা গ্রামে পাওনা জমি বুঝে চাওয়ায় একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. সফিকুল ইসলাম (মহি) প্রায় ৭ বছর আগে প্রতিবেশী আনারুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেন। টাকা পরিশোধের পর থেকে সফিকুল ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৭ বছর ধরে আসামিরা জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে নানা টালবাহানা শুরু করে। গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেলে সফিকুল ইসলাম পুনরায় জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে বললে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও লুটতরাজ
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিনই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকায় ১ নং আসামি আনারুল ইসলামের নেতৃত্বে মনিরুল, নজরুল, আঃ সাত্তার ওরফে ছবু, কাবিরুল ও মানিকসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, কাতা ও লোহার রড নিয়ে সফিকুল ইসলামের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে,বর্বরোচিত হামলা চালায়। আক্রমণ চালিয়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভাঙচুর শুরু করে। ১ নং আসামির নির্দেশে ২ ও ৩ নং আসামি সফিকুলকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে এবং ১ নং আসামি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কাতা দিয়ে কোপ দেয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম (মহি)
নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন" স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী এলিনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি আসামিরা সফিকুলের ৭ বছরের শিশু সন্তানকেও তুলে আছাড় দেয়, যা অত্যন্ত অমানবিক। লুটপাট' হামলাকারীরা ঘর থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সফিকুলের মাথায় ৮টি সেলাই পড়েছে এবং নারী ও শিশুদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। নিজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার ছেলের মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় সদর মডেল থানার ওসিসহ এলাকাবাসী এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ষড়যন্ত্র ও পাল্টা মামলার অপকৌশল! নেপথ্যে এসপি অফিসের স্টোনো ওয়ানের কর্মরত ইসমাইল ওরফে 'ফটিক' ঘটনার পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করার পর, আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে আসামিরা পাল্টা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এজাহারভুক্ত ১ থেকে ৬ নং আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে এবং মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিজেদের শরীরে ব্লেড দিয়ে ক্ষত তৈরি করে সদর হাসপাতালে নাটকীয়ভাবে ভর্তি হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) অফিসের স্টোনো ওয়ান' ইসমাইল ওরফে ফটিকের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফটিক এই সন্ত্রাসী চক্রের সাথে ‘কন্টাক্ট’ করেছেন। তিনি সরাসরি সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে আসামিদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধেই একটি সাজানো এজাহার দায়ের করার ব্যবস্থা করেন। একজন সরকারি কর্মচারীর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে থানায় প্রভাব খাটানোর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।