পাবনায় পৈশাচিকতা দাদীকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণ ও গণধর্ষণ শেষে খুন
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এসএম রুবেল তারিখ:২৮-২-২০২৬। সভ্যতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে পাবনার ঈশ্বরদী। মধ্যরাতের অন্ধকারে এক পৈশাচিক তান্ডবে লীন হয়ে গেছে দুটি তাজা প্রাণ। অপহরণে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধা দাদীকে কুপিয়ে হত্যা এবং পরবর্তীতে ১৫ বছর বয়সী নাতনিকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যার এই নৃশংস ঘটনা স্তম্ভিত করে দিয়েছে পুরো জনপদকে।
বিভীষিকাময় সেই মধ্যরাত অবধি গত গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর বয়সী কিশোরী জামেলাকে তার নিজ ঘর থেকে একদল দুর্বৃত্ত অপহরণ করার চেষ্টা করে। নাতনিকে বাঁচাতে মরণপণ চেষ্টা চালান বৃদ্ধা দাদী সুফিয়া বেগম। এসময় খুনিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দাদীকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপহরণ ও পৈশাচিক লালসার বলি জামেলা দাদীকে খুনের পর ঘাতকরা জামেলাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির নিকটবর্তী বিলে নিয়ে কিশোরীটির ওপর পাশবিক নির্যাতন বা গণধর্ষণ চালায় দুর্বৃত্তরা। অপরাধ আড়াল করতে সবশেষে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। আজ সকালে বিলের ধারে নাতনির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসী পুলিশে খবর দেয়।
রক্তাক্ত জনপদ বিবেকের কাছে প্রশ্ন-? নিজ বাড়ির উঠানে দাদীর রক্ত আর ক্ষেতের আইলে নাতনির লাশ—এই দৃশ্য আজ কেবল একটি সংবাদ নয়, বরং আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপ। যে সমাজে পিতার চোখের সামনে থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়, সেখানে সভ্যতার দাবি বাতুলতা মাত্র।পরিকল্পিত অপরাধ অপরাধীদের সাহস এবং নৃশংসতা প্রমাণ করে তারা আইনকে তোয়াক্কা করছে না। নিরাপত্তাহীনতা নিজ গৃহেও আজ নারী ও শিশুরা সুরক্ষিত নয়।
বিচারের দাবি এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অতিদ্রুত ঘাতকদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আমাদের দাবি নীরবতা আর নয়'এই নৃশংসতা প্রমাণ করে যে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা আজ মহামারীর আকার ধারণ করেছে। আমরা কি শুধু সংবাদ পড়ব আর দুদিন পর ভুলে যাব? নাকি এবার রুখে দাঁড়াব? দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল' এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি' দাদী ও নাতনি হত্যার সাথে জড়িত প্রতিটি নরপশুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে হবে।
সামাজিক জাগরণ' পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এখনই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন, আজ জামেলা হারিয়েছে তার প্রাণ, কাল আপনার ঘরও নিরাপদ নয়। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া মানে পরবর্তী অপরাধকে আমন্ত্রণ জানানো। এই রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের এখনই বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মানবতা বাঁচাতে, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে আমাদের এখনই জাগতে হবে তাই এখনই সময় প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সভ্যতার লাশকাটা ঘরে মানবিকতা—আর কত রক্ত ঝরলে ভাঙবে আমাদের ঘুম?