নিজস্ব প্রতিনিধি:
পাটকেলঘাটা এলাকায় মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে শারীরিক হেনস্তা ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটার টাওয়ার রোডে ১/১ ক খতিয়ানের একটি ভিপি (ভেস্টেড প্রপার্টি) জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলাধীন থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি ছাড়াই ওই জমিতে ঘর নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
উক্ত দোকান ও ঘরটি পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার ১৮ লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন বলে স্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে স্ট্যাম্প সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। তবে জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় এ ধরনের নির্মাণকাজ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে চৌগাছা গ্রামের মনি ও সাতক্ষীরার রবিউল নামে দুই সাংবাদিককে ফোন করে ডেকে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথমে টাকার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়, পরে পুনরায় তাদের আটক করে মব সৃষ্টি করা হয় বলেও একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।
শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় মোট পাঁচজন সাংবাদিকের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন—
গোলাম রব্বানী, দৈনিক সংবাদ সংযোগ
আলমগীর হোসেন, প্রতিদিনের কথা
খান আতাউর রহমান, দৈনিক বর্তমান কথা ও সাতক্ষীরার সকাল
মাসুদ হাসান মনি, দৈনিক সোনালী কণ্ঠ
মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, সাতক্ষীরার সংবাদ
সাংবাদিকদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের কণ্ঠরোধ ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাব–এর সভাপতি পরিচয়দানকারী ও রূপালী বাংলা পত্রিকার নাম ব্যবহারকারী আব্দুল মমিনের ভূমিকাও নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালা উপজেলা ভূমি অফিস–এর এসিল্যান্ড মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন

