পদ্মার বুক চিড়ে মাটিকাটা! মধ্যরাতের অভিযানে কুখ্যাত ভূমিদস্যু চক্রের সন্ধানে এসিলান্ডের ধরপাকড়!
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |রাতের অন্ধকারে প্রমত্তা পদ্মার বুক চিড়ে অবৈধভাবে মাটি লুটে মেতেছিল একদল প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। প্রশাসনের অতর্কিত অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ল মাফিয়া চক্রের সদস্যরা। উন্মোচিত হলো ইটভাটার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধের এক কালো অধ্যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের স্পার বাঁধ এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই রাতের আঁধারে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মধ্যরাতে ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাঁধ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানের খবর টের পেয়ে মূল হোতারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে আটকা পড়ে মাটিভর্তি একটি ট্রাক্টরসহ চালক সাকিব রানা (১৯)।
ইটভাটার সংশ্লিষ্টতা ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী,গ্রেফতারকৃত সাকিব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, এই মাটি কোনো ব্যক্তিগত কাজে নয়, বরং অবৈধভাবে সরবরাহ করা হচ্ছিল ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)-এ। পরবর্তীকালে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফেঁসে যান খোদ ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১)। নদীর প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করে ইটভাটার জোগান দেওয়ার এই স্বীকারোক্তি পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আইনগত ব্যবস্থা ও দণ্ডাদেশ দিয়ে সরেজমিনে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাকিব রানাকে দুটি ভিন্ন আইনে (ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন) দোষী সাব্যস্ত করে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অপরাধে মদদ দেওয়ার দায়ে ইটভাটা ম্যানেজার এনামুল হককে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও তা আদায় করা হয়। প্রকৃতি ও পরিবেশের শত্রু এই ভূমিদস্যুরা সমাজের ছদ্মবেশে ঘাপটি মেরে থাকে। রাতের আঁধারে যারা নদী ও মাটির সম্পদ লুট করতে দ্বিধা করে না, তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান একটি কঠোর বার্তা। প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকলে অচিরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ হবে অপরাধমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব একটি জেলা। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলসহ পদ্মার পাড়ে বসবাসরত স্থানীয় এলাকাবাসী