নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার নারী কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা ও সাংবাদিক আনোয়ারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন ‘মায়াজালে’র খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অজ্ঞাত যুবকের সঙ্গে এই নারী পুলিশ সদস্যের অতি ঘনিষ্ঠ ছবি ভাইরাল হওয়ায় নেট দুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, সাংবাদিকের থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকায় কি তবে এখন নতুন প্রেমিকের সঙ্গে বিলাসী জীবন কাটচ্ছেন রুবিনা?
অভিযোগ উঠেছে, রুবিনা আক্তার শুধু আর্থিক প্রতারণাই করেননি, বরং পুলিশ সদস্য হয়েও লিপ্ত হয়েছেন একের পর এক অনৈতিক সম্পর্কে। সাংবাদিক আনোয়ারের দাবি, রুবিনা তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাজানো সংসার ভাঙতে বাধ্য করেন এবং বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন অজুহাতে ধাপে ধাপে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি হাতিয়ে নেন। এখন টাকা ফেরত চাইলে রুবিনা তার সহযোগীদের নিয়ে উল্টো সাংবাদিককে মারধর ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছেন। অভিযুক্ত নারী পুলিশ রুবিনা মাদারীপুর সদর থানার লক্ষীগঞ্জ এলাকার মোশাররফ তালুকদারের মেয়ে।
আইন লঙ্ঘনের মহোৎসব পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯ অনুযায়ী কোনো সদস্যের এমন নৈতিক স্খলন সরাসরি চাকরিবিধির পরিপন্থী। বিশেষ করে পিআরবি-১০৮ এবং সরকারি আচরণ বিধিমালার ৭(১) ধারা লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন এই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে খোদ গাজীপুর পুলিশ মহলেই চাপা ক্ষোভ ও গুঞ্জন বিরাজ করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি, উল্টো অভিযোগকারীকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবে তার অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো অদৃশ্য ইশারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন ছবি রুবিনার ‘অপেশাদার’ জীবনযাত্রার দিকেই আঙুল তুলছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া রুবিনাদের খুঁটির জোর কোথায়?
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এই ধরনের গুরুতর নৈতিক স্খলন ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে ভুল বার্তা যাবে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য দিতে বা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, লৌহজং থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।