
আশেকে এলাহী শিবলী — ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনটে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় মাইশা খাতুন (৪) নামে এক শিশু দগ্ধ হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের ভুবনগাঁতি জাঙ্গালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুবনগাঁতি জাঙ্গালপাড়া এলাকার মৃত হালিম উদ্দিনের ছেলে মোন্নাফ হোসেন পেশায় একজন সিএনজি চালক। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরে তিনি সিএনজি নিয়ে কাজে বের হন। দুপুরে তার স্ত্রী চার বছরের কন্যা মাইশা খাতুনকে ঘরে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে কাজে যান।
এসময় হঠাৎ করে বসতঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে শিশুটির মাথা ও শরীরের কিছু অংশ আগুনে পুড়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে মোন্নাফ হোসেনের জামাতা সুমন হোসেনও দগ্ধ হন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় বসতঘরের আসবাবপত্র ও মালামালসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ধুনট ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার হামিদুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল করিম পুটু জানান, “ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত আছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।”