
জেলগেটে নিথর লা’শ”বিচার হোক অপরাধের, বলি কেন হবে মানবিকতা-?” ছিদ্র হয়েছে পাথর!
প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, ফ্রিজিং ভ্যানেই শেষ” দেখা”আমরা কোন সমাজে বাস করছি-? “লাশ গেল জেলগেটে” মানবিকতা কি তবে কেবল বিশেষ মানুষের জন্য-?”শেষ বিদায়ের হাহাকার”জেলগেটে নিথর স্ত্রী-সন্তান,বন্দি মানবিকতা! খাঁচায় বাংলাদেশ”। ৯ মাসের সন্তানকে কোনোদিন কোলে নেননি বাবা’ আজ কারাগারের শিকলে দেখা হলো নিথর দেহের সাথে!
মানবিকতা যখন কারাবন্দী”!
একজন পিতা কিংবা একজন স্বামীর জন্য এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে? নিজের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, উল্টো নিথর দেহ দুটিকে কফিনে করে নিয়ে যেতে হলো জেলগেটে! প্যারোলে মুক্তি পাওয়া যে কোনো নাগরিকের আইনি এবং মানবিক অধিকার, বিশেষ করে যখন পরিস্থিতি এমন শোকাবহ। ক্ষমতার পালাবদল বা রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু “মানবিকতা” কি সবার জন্য সমান নয়-? জুলুমের বিরুদ্ধে যদি আমাদের লড়াই হয়, তবে সেই একই পথে হাঁটা কি জালেমকে সমর্থন করা নয়-?
বিচার হোক অপরাধের, কিন্তু মানবিকতা যেন বিচারের নামে বলি না হয়।”জুলুমের কি কোনো শেষ নেই-? সাম্প্রতি নজিরবিহীন অবজ্ঞায় বলি” ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানের লাশ ফ্রিজিং ভ্যানে করে জেলগেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে দেখানোর জন্য। অথচ মানবিক কারণে তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়াটা কোনো কঠিন কাজ ছিল না। প্রশ্ন জাগে—যাদের হাত থেকে মুক্তির জন্য মানুষ লড়েছিল, তাদের আচরণের সাথে জালেমের পার্থক্য আজ কোথায়? প্রতিশোধের রাজনীতি যদি মানবিক বোধকেও গ্রাস করে ফেলে, তবে আমরা কোন সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখছি?
শোকাতুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা। ন্যায়বিচার ও মানবিকতা জয়ী হোক। যারা সরাসরি প্রশ্ন করতে চান একটি মৃত শিশু, তার মা এবং একজন বন্দীর হাহাকার! রাজনীতি কি মানুষের প্রাণের চেয়েও বড় হয়ে গেল? স্ত্রী-সন্তান হারানো একজন মানুষকে শেষ দেখার সুযোগ না দিয়ে জেলগেটে লাশ পাঠিয়ে দেওয়া কোন ধরণের ইনসাফ?” আমরা কি কেবল জালেম বদলেছি, নাকি জুলুমের ধরণও বদলাতে পেরেছি? রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন—প্যারোলে মুক্তি কি কেবল বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য? সাধারণ বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের জন্য কি ন্যূনতম মানবিকতাও অবশিষ্ট নেই?
মনে রেখো বাংলাদেশ! স্ত্রী আর ৯ মাস বয়সের শিশুসন্তানের লা’শ ও ছাত্রলীগের সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্ত করতে পারেনি। ছাত্রলীগের সাদ্দামের হৃদয়ের অনুভূতি কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ বিদায় দিতে হচ্ছে জেলের গেট থেকে। কত মর্মান্তিক, প্রশাসন প্যারোলেও মুক্তি দিলো না সাদ্দামকে।
“এসএম রুবেল” সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার’ (লেখক) চাঁপাইনবাবগঞ্জ।।