জনভোগান্তি নাকি অবহেলা? চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে কয়েক হাজার মানুষের ‘নর্দমা-যাতায়াত’ এবং উন্নয়নের নামে প্রহসন!
বিশেষ অপরাধ ও জনদুর্ভোগ অনুসন্ধান!
একটি দেশের উন্নয়ন যখন মহাসড়ক পেরিয়ে গলিপথ ছোঁয়ার দাবি রাখে, ঠিক তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মিলকীর মোড় থেকে বাগান পাড়া (উঁচা পাড়া শেষ মাথা) হয়ে কল্যাণপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থান পর্যন্ত রাস্তার চিত্রটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি। সামান্য বৃষ্টিতেই যা রূপ নেয় এক একটি মরণফাঁদে। স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন—একটি পাকা রাস্তা ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যা আজ কেবলই কাগজের দলিলে কিংবা জনপ্রতিনিধিদের ফাঁপা আশ্বাসে বন্দি হয়ে আছে বছরের পর বছরের।
কাদা-পানিতে বন্দি জনজীবন ও প্রশাসনের অন্ধত্ব! সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই এই এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অবর্ণনীয় ও কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতি। নর্দমা আর বৃষ্টির পানি মিশে একাকার হয়ে রাস্তাটি হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। কাদা আর নোংরা পানির মধ্য দিয়েই প্রতিদিন বাধ্য হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের। একটি স্বাধীন দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার বাসিন্দারা কীভাবে এমন অমানবিক ও নোংরা পরিবেশে বাস করতে পারে, তা নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে স্থানীয় সচেতন মহলে। জনজীবন এখানে স্থবির, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন চোখ থাকতেও অন্ধ।
ব্যবসায়িক স্থবিরতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার! এই দীর্ঘমেয়াদি অবহেলা কেবল যাতায়াতের কষ্টই বাড়ায়নি, বরং পুরো এলাকার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুসন্ধানী দলকে জানান, এই বেহাল দশা থেকে মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দরখাস্ত ও আকুতি জানানো হয়েছে বহুবার। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার আবেদন করার পরও কর্তৃপক্ষের এই নিশ্চুপ ভূমিকা কোনো সাধারণ অবহেলা নয়, বরং একে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণের শামিল এক ধরণের 'প্রশাসনিক অপরাধ' হিসেবেই দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
ভোটের রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিদের ‘আশ্বাস- দিয়ে প্রতারণা’ কেন এই অবহেলিত এলাকার সাধারণ মানুষ গুলো-? নির্বাচন এলে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা আর উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার চটকদার প্রতিশ্রুতির কোনো কমতি থাকে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক সংসদ সদস্য (এমপি) এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিগুলো জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই রাস্তার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবারই মিলেছে কেবলই শুষ্ক আশ্বাস। কিন্তু ভোট পার হতেই সেই সব প্রতিশ্রুতির কথা কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। কেন্দ্রীয় গোরস্থানের মতো একটি পবিত্র স্থানে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির এই কঙ্কালসার দশা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা কতটা শূন্যের কোঠায়।
অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি ও চূড়ান্ত হুশিয়ারি! দেশের মানুষ আর ডিজিটাল বাংলাদেশে হয়েও কেন অবহেলিত থাকবে আর কতদিন? কল্যাণপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থান সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার এবং দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এখন আর বিলাসী দাবি নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। দিনের পর দিন এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে এভাবে জিম্মি করে রাখার শেষ কোথায়—তা জানতে চায় ভুক্তভোগী মহল। স্থানীয় আপামর জনসাধারণের দাবি, এবং ঘোষনা! অনতিবিলম্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে এই জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই অবহেলিত কয়েক হাজার মানুষ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে। পর্ব-১ চলমান চিত্রে।
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিডিয়া- সেল | গণমাধ্যম ২৯ মে, ২০২৬। (সরেজমিন প্রতিবেদন)।।