
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান’ মৃধাপাড়ায় আলোচিত মাদকের সাম্রাজ্য তছনছ, সপরিবারে গ্রেফতার ৫ মাদক সম্রাট
চাঁপাইনবাবগঞ্জ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ইনভেস্টিগেশন টীম’ | ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬’চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এক সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র শান্ত মোড় সংলগ্ন মৃধাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা একটি ‘মাদক দুর্গে’ হানা দিয়ে ৫ জন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সদর আর্মি ক্যাম্পের টহল দল। অপারেশন ‘মৃধাপাড়া’: যেভাবে চললো সাড়াশি অভিযান! সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মাদকমুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫:০০ ঘটিকা থেকে সকাল ৮:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত বেঙ্গল ক্যাভেলারি’র নেতৃত্বে এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও চৌকস টহল দলের জালে ধরা পড়ে পুরো চক্রটি। বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০ পিস ইয়াবা এবং সাইকেলের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ দেশীয় অস্ত্র। দীর্ঘদিনের মাদকের পারিবারিক সিন্ডিকেটের ভেঙে দিল স্পেশাল টীম আর্মি’ অনুসন্ধানে জানা গেছে’ গ্রেফতার কৃতরা’ দীর্ঘদিন ধরে শান্তি মোড় ও মৃধাপাড়া এলাকাকে কেন্দ্র করে মাদকের এক ভয়াবহ রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর অস্থায়ী আর্মি ক্যাম্পের এই সাহসী অভিযানে জেলাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। জেলা শহরের প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা মূলত ‘ফ্যামিলি সিন্ডিকেট’ হিসেবে পরিচিত। সপরিবারে তারা পাইকারি ও খুচরা মাদক ব্যবসায় লিপ্ত ছিল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মাদক সেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এই বাড়িটি ছিল ইয়াবার প্রধান আস্তানা। এলাকার সাধারণ মানুষ এই চক্রটির কাছে জিম্মি থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। অবশেষে ভেঙে তাদের বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেট সেনাবাহিনী! বিশেষ অভিযানে কারবারীদের বাড়ি ঘেরাও করে’ তাৎক্ষণিক বিচার ও সাজার আওতায় অভিযানস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. একরামুল হক নাহিদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অপরাধ স্বীকার ও প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সেনাবাহিনীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’শান্ত মোড়ের কুখ্যাত মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে গ্রেফতার ৫, উল্লাসিত জনতা” জেলা শহরের এই শীর্ষ মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে’মো. আব্দুল আজিজ (২৮), পিতা: রঞ্জু আলী – ৩ মাসের কারাদণ্ড। মিন্টু আলী (৪২), পিতা: সবুর আলী – ৩ মাসের কারাদণ্ড। রিপন হোসেন (৪৬) সিড– ০৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড। মো. জিহাদ (২০), পিতা: খালেক – ০৭ দিনের কারাদণ্ড। মো. শাকিল হোসেন (২৩), পিতা: মো. সিদ্দিক – সিড-২’ ০৭ দিনের কারাদণ্ড। সরজমিনে এসব শীর্ষ মাদক কারবারিদের কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদেরকে সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। সেনাবাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ বিচারকের পরবর্তী পদক্ষেপে’সাজা ঘোষণার পর গ্রেফতারকৃতদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানাযায় সেনাবাহিনীর এই কঠোর অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকের এই গডফাদারদের মূলোৎপাটন করতে সেনাবাহিনীর এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা প্রয়োজন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আর্মি ক্যাম্প জানায়, মাদকমুক্ত জেলা গড়তে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা গডফাদারকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ’সদর আর্মি ক্যাম্প টহল দল বেঙ্গল ক্যাভেলারি) স্পেশাল ফোর্স’র নেতৃত্বে জেলা জুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের ইনচার্জের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানগুলো অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সিও-র (কমান্ডিং অফিসার) নির্দেশনায় এই বিশেষ টহল দলগুলো জেলার প্রতিটি কোণায় মাদকের মূল উৎপাটন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে, শান্ত মোড় ও মৃধাপাড়ার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মাদক কারবারিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং পারিবারিক মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার মাধ্যমে জনগণের মনে সেনাবাহিনী গভীর আস্থার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান অভিযানগুলো জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও নিরাপত্তার নতুন পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে। দেশ ও দশের কল্যাণে সেনাবাহিনীর এই বলিষ্ঠ এবং সাহসী পদক্ষেপগুলো আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সিও-র পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং যুবসমাজকে মাদকের মরণ ছোবল থেকে বাঁচাতে এ ধরনের অভিযান নির্বাচন ঘিরে আরও জোরদার করা হবে। ইনভেস্টিগেশন টিম’ অফ ক্রাইম সিন’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ অনুসন্ধানী মূলক টিম। এসএম রুবেল। ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।