
এসএম রুবেল সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার চাঁপাইনবাবগঞ্জ’
পরিবেশ রক্ষায় ও বায়ুদূষণ রোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সদর উপজেলার বারোঘরিয়া এলাকায় দিনব্যাপী পরিচালিত এক মোবাইল কোর্টে ০৯টি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে ৩টি ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ০৮টির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অভিযানের সরাসরি জড়িত কর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে! মাঠে যৌথ বাহিনী জোরালো কার্যক্রমে’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)’ এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এতে দণ্ড ও পদক্ষেপ! জরিমানা: ০৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলায় মোট ৩২,০০,০০০ (বত্রিশ লাখ) টাকা জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে। এনিয়ে উচ্ছেদ ও বন্ধ! ৩টি অবৈধ ইটভাটার সকল কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ভেকু (Excavator) দিয়ে ভাটার একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ৮টি ইটভাটার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরেজমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নেতৃত্ব ও সহযোগিতা নিয়ে যৌথ বাহিনীর
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় (বগুড়া)-এর বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মিজ্জা প্রিয়াংকা দাস। অভিযানে সার্বিক তদারকি করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ‘আবু সাঈদ’ এনিয়ে চলমান অভিযান নিয়ে
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও কারিগরি সহায়তায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে’জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স সাথে জেলা আনসার ও ভিডিপি এছাও সাথে ছাড়া সারাশি মহড়ার সাথে! র্যাব-৫ (RAB-5) এর একটি বিশেষ দল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য বেরিয়ে আসে
অভিযান শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি আইন অমান্য করে এবং ছাড়পত্র ছাড়াই কৃষি জমি ও লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছিল,। যা পরিবেশের জন্য চরম হুমকি। জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ভাটাসমূহে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানো হয় এবং অবকাঠামো আংশিক ধ্বংস করা হয়। আরও বক্তব্যে জানানো হয়’পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ধরণের সাঁড়াশি অভিযান জেলাজুড়ে নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা বিবেচনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও জেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।