চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে) হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেন।
সকাল থেকেই পিএমকের গোমস্তাপুর (রহনপুর) শাখা প্রাঙ্গণে রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। দিনব্যাপী চলা এ আয়োজনে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়।
মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম, ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ডা. মুহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম এবং ডা. চন্দন দেব বর্মন। তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং চিকিৎসার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অর্থাভাবে যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, তাদের জন্য এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিএমকের গোমস্তাপুর (রহনপুর) শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুল্লাহ মানিক এবং হিসাবরক্ষক মোঃ আবু তালেব। তারা জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও অর্থনৈতিক কারণে চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে তারা সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোমস্তাপুর অঞ্চলে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা আয়োজন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি শুধু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানই নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।