ক্রীড়া প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবারের মতো এতো বাজে রেফারিংয়ের শিকার আর কখনো দেখেনি ফুটবল প্রেমীরা..!
চলতি পাইওনিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্টে ভুল সিদ্ধান্ত ও জোরপূর্বক হারিয়ে দেওয়া এবং অনেক নাটকী সিদ্ধান্ত ফুটবল বুদ্ধাদের মতে হাস্যকর আয়োজন বলেও প্রবীণ কোচ ও সাবেক ফুটবলার গণ অবহিত করেন।
এর আগে ডাইনামিক ফুটবল একাডেমি ভূল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ থেকে উঠে ২-০ যে হারে।
দক্ষিণ হালিশহরের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জোর পূর্বক পেলান্টি শুট আউটে ড্র দিয়ে পরবর্তীতে ট্রাইবেকারে ১৪/১৩ গোল শুট আউটে রেফারি মিরনের দল ( চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিকে জিতিয়ে দেন ঐ রেফারি গ্রুপ।
আর এবার সেই শিকারের বলি হয়েছেন কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ক্রীড়া সংস্থা ফুটবল একাডেমি।
নির্ধারিত ৬এপ্রিল ,সোমবার, বিকাল ৩:১৫ মিনিটে প্রভাতী ফুটবল একাডেমির সাথে গ্রুপ পর্বের ৩য় ম্যাচে অংশগ্রহণ করে।
খেলা চলাকালীন প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রভাতী ফুটবল একাডেমি একটি পেনাল্টি পায়। পেনাল্টি নেওয়ার সময় রেফারি ভুলভাবে খেলার আইন ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন যে, গোলকিপার বল সেভ করলে দ্বিতীয়বার শট নেওয়া যাবে না (“One shot, one touch”)। এ কারণে রেফারি সকল খেলোয়াড়কে একই নির্দেশনা দেন, ফলেবড় উঠানের গোলকিপার পেনাল্টিটি সেভ দেওয়ার পরও কোনো খেলোয়াড় বল স্পর্শ করেনি।
এই অবস্থায় কোনো হুইসেল না বাজিয়েই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় গোল করে। প্রথমে রেফারি সেটি বাতিল করে “গোল কিক” দেন। কিন্তু প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর হঠাৎ করে পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেই গোলকে বৈধ ঘোষণা করা হয়—যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। কোনো আপত্তি বা ব্যাখ্যার সুযোগ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বড় উঠান একাডেমি রেফারির এই ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে দলের ক্যাপ্টেনকে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ আশ্বাস দিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোনো সুষ্ঠু সমাধান প্রদান না করে, খেলার নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়া সত্ত্বেও এবং হাফটাইম সম্পন্ন না করেই, প্রায় ৫৫ মিনিট খেলা অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
এতে করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে ছিটকে পড়ে সম্ভব ্য সাফল্য মন্ডিত একটি একাডেমি।
উপরোক্ত ঘটনাটি সম্পূর্ণ অন্যায্য, অগ্রহণযোগ্য এবং ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত বলে সাবেক ফুটবলার বাবর আলী,রহমত উল্লাহ ও মোঃ মূছা সহ অনেক দর্শক।
এদিকে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক উক্ত ম্যাচটি বাতিল করে দলের জন্য পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাননীয় পুলিশ কমিশনার ও ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার বরাবরে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে বড় উঠান ফুটবল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহার উদ্দিন।
চলতি খেলার সময় মাঠে ফুটবল সম্পাদক মাহাবুবুল আলম মুকুল, উপ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার ইবাদুল হক লুলু, সদস্য মোঃ নাছির উদ্দিন ও সাবেক ফুটবলার, উপ কমিটির সদস্য জহুরুল ইসলাম জহির সহ রেফারি সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।