শিবগঞ্জ ইউএনও মাজহারুল ইসলামের নামে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ
সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ফেসবুক পেইজে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলার ৩ নং দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের দানিয়ালগাচ্ছি মৌজার সরকারি পুকুর থেকে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে (উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম) জড়িয়ে যে বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রকাশিত সংবাদে প্রশাসনের অসাধু সহযোগিতা এবং আমার পরোক্ষ সম্মতির যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও সত্যবর্জিত। আমি এই অসত্য ও বানোয়াট প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রকৃত সত্য এই যে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সবসময়ই সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং যেকোনো ধরণের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে কাজ করে আসছে। দানিয়ালগাচ্ছি মৌজার খতিয়ান নং-১ ও দাগ নং-১৭১ এর সরকারি পুকুরে অবৈধভাবে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার বিষয়টি জানার পর পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আমার বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আমার ছবি ব্যবহার করে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, যা স্পষ্টত সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং চরম মানহানিকর।
আমি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারী বা অবৈধ মাটি উত্তোলনকারী চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের সাথে প্রশাসনের আপস করার কোনো সুযোগ নেই। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ জনগণকে এই ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া এই ধরণের মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে।
বিনীত,
মাজহারুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উল্লেখ্য :দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের দানিয়ালগাছি মৌজার পুকুর খননের সাথে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের দানিয়ালগাছি/২১ মৌজার ১৭১ নং দাগের পুকুরটি সরকারি সায়রাত মহলভুক্ত যা নিয়মিত ইজারা প্রদান করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৩৩-৩৫ বঙ্গাব্দ মেয়াদে ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। উল্লিখিত মেয়াদের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন কর্ণখালি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। ইজারা প্রদানের পর উপজেলা ভূমি অফিসে উক্ত সায়রাত মহলে সরকারের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আছে মর্মে সংশ্লিষ্ট মামলার রায়ের ফটোকপি জমা দেন এক ব্যক্তি। তবে উক্ত মামলার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোর্টের কোন রায়ের তথ্য অত্র অফিসে পূর্বে ছিলনা।
উক্ত দাখিলকৃত কাগজ যাচাই করে দেখা যায়, নালিশী জমি নিয়ে 50/2007 নং অঃ প্রঃ মোকদ্দমায় 24.08.2016 খ্রি. তারিখ রায়ে বিবাদী পক্ষকে (বাংলাদেশ সরকার) “নালিশী জমিতে অনুপ্রবেশ করা হতে বিবাদী পক্ষকে চিরস্থায়ীভাবে নিষেধ করা হলো।” মর্মে আদেশ দেখা যায়। মহামান্য আদালতের রায়ের আদেশ থাকায় উক্ত জমিতে সরকারের পক্ষে ইজারা কার্যক্রম চলমান রাখার সুযোগ নেই এবং উপজেলা জলমহাল কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত সায়রাত মহালটির ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। উক্ত পুকুর পুনঃখনন কিংবা সংস্কারের কোন ধরনের অনুমতি উপজেলা প্রশাসন থেকে দেয়া হয়নি।
উক্ত অবৈধ খনন কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্ণখালি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সম্পূর্ন অবৈধভাবে কোন ধরণের কোন অনুমতি ব্যতিরেকে স্বউদ্যোগে রাতের আধারে খনন করে দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের নয়াগ্রাম নামক স্থানে জমা করে রাখে, যা প্রশাসন জানার সাথে সাথে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে উত্তোলিত মাটি সরকারের জিম্মায় গ্রহণ করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উক্ত স্থানে সরেজমিনে গিয়ে স্তুপকৃত অবৈধ মাটি ও একটি এক্সক্যাভেটর মেশিন জব্দ করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, দাইপুকুরিয়া এর জিম্মায় প্রদান করেন।উক্ত পুকুরটি অবৈধভাবে খনন কার্যক্রমের সাথে অত্র উপজেলার কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিডিয়া- সেল | গণমাধ্যম ২৫ মে, ২০২৬।