চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা নদীপথে নৌকাযোগে ১৫ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৫ জন শিশু ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। বিজিবির তৎপরতার কারণে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা বরাবর ভারতের অংশে অবস্থান করতে থাকে।
পরবর্তীতে বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা পর বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ওই ১৫ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ-ইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় রাত্রিকালীন টহলও জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।