চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘অকটেনের আড়ত’ মুদি দোকান! ছদ্মবেশে ইউএনও’র হানা, ২০ লিটার তেল জব্দ
এস এম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক! investigation team of Crime scene Chapainawabganj | ২৪ মার্চ, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় সাধারণ মুদি দোকানের আড়ালে চলছিল জ্বালানি তেলের রমরমা কালোবাজারি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ কৃষ্ণগোবিন্দপুর চামারপাড়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ২০ লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত অকটেনসহ এক অসাধু ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন! ভূমি অফিসার। ঘটনার নেপথ্যে! যেভাবে ধরা পড়লেন অসাধু ব্যবসায়ী মকবুল, কৃষ্ণগোবিন্দপুর এলাকার মকবুল হোসেনের মুদি দোকানে দীর্ঘদিন ধরে চড়া মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে প্রশাসন। আভিযানিক দলটি প্রথমে ছদ্মবেশে সাধারণ ক্রেতা সেজে মকবুলের দোকানে অকটেন কিনতে যায়। এ সময় সুযোগ বুঝে মকবুল প্রতি লিটার অকটেনের দাম ২৭০ টাকা দাবি করেন, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
অতিরিক্ত দাম চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই দোকানে এবং মকবুলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে বাড়ি ও দোকান সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা করে উপজেলা প্রশাসন ইনভেস্টিগেশন ক্রাইম টিম। সরেজমিন কাট ফিল্ম স্টাইলে অভিযান ও দণ্ড! উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে অভিযুক্ত মো. মকবুল হোসেন (৪০) অপরাধ স্বীকার করেন। উপজেলা প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপে সরাসরি পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০, ধারায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও আদায় করা হয়।
অভিযানের উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত অটল উপজেলা প্রশাসন! জব্দকৃত তেল! উদ্ধারকৃত ২০ লিটার অকটেন বিধি মোতাবেক বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধান অনুযায়ী রাজস্ব জমা! বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি নির্ধারিত কোডে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার জন্য বেঞ্চ সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানে সহযোগিতায় পরোক্ষভাবে ঢাল হয়ে ছিলেন! সদর মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল, পুলিশের সক্রিয় ভূমিকাই অভিযানে নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তায়,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে! চলমান অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। অভিযান শেষে জানানো হয় যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টিকারী অসাধু ব্যবসায়ী, মজুতদার ও কালোবাজারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বলে জানান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার,ও জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,পুলিশ সুপার! চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে, জনভোগান্তি লাঘবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও, পুলিশ সুপার ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। মজুতদার ও কালো বাজারিদের প্রতি কড়া বার্তা! প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে,মুদি দোকানের আড়ালে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনসাধারণের পকেট কাটার দিন শেষ। জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশনায়,পুরো জেলা জুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি আদায় করে কিংবা পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে,তবে তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্নকারী যেকোনো অসাধু চক্র, মজুতদার ও কালো বাজারিদের বিরুদ্ধে এই সাঁড়াশি অভিযান এখন থেকে নিয়মিত বিরতিতে চলবে। মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করা হুঁশিয়ারি ও সক্রিয় ভূমিকা।।